জেলা প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
নীলফামারীর দারোয়ানী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবরোধের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চিলাহাটি থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
সকালে অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন আটকে পড়ে। আটকা পড়ে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটিও। পরে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে সকালে দারোয়ানী রেলস্টেশন এলাকায় ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি, দারোয়ানী স্টেশনে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া জামিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে শুধু একটি লোকাল ট্রেন থামে। স্টেশনটি অনেক পুরোনো। আমরা চাই, এখানে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হোক।
আরেক আন্দোলনকারী সাফিন আহমেদ বলেন, ‘আমার বাবা-দাদারাও এই স্টেশন থেকে বিভিন্ন ট্রেনে যাতায়াত করতেন। আগে প্রায় দুই-তিনটি ট্রেন থামত। এখন শুধু সকালে একটি ট্রেন থামে। আমরা চাই, এখানে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হোক।’
নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ময়নুল হোসেন জানান, সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে প্রবেশ করে। এরই মধ্যে তারা জানতে পারেন, দারোয়ানী স্টেশনে রকেট মেইল ট্রেন আটকে রেখে আন্দোলন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, ‘আমি পাকশির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, নতুন স্টেশনমাস্টারদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে বন্ধ থাকা রেলস্টেশনগুলোতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। দারোয়ানী রেলস্টেশনে স্টেশনমাস্টার নিয়োগ করে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
প্রশাসনের এ আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। পরে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রতিনিধি/এসএস