Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বের হয়ে ছিলেন পূজা দেখতে, দুদিন পর নদীতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ফরিদপুরে পূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুমার নদ থেকে কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুরের মদনখালী স্লুইসগেট-সংলগ্ন নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

‎পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরেন কৌশিক। পরে পোশাক পরিবর্তন করে আবার পূজা দেখতে বের হন তিনি। এ সময় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার গেটের চাবি সঙ্গে নিয়ে যান। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফেরেননি।

‎পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‎মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তার প্যান্টের পকেট থেকে একটি চাবিও উদ্ধার করা হয়।

‎খবর পেয়ে কৌশিকের বাবা ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরনের পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পকেটে পাওয়া চাবিটি নিয়ে তার বাসার তালা পরীক্ষা করা হয়। চাবি দিয়ে তালা খোলায় পরিচয় নিশ্চিত হতে সহায়তা মেলে।

‎কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে চাবিটি নিয়ে বাসার তালা পরীক্ষা করা হয়। এতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

‎কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, আমরা মৃত কৌশিক সাহা জিতুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়ার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ কারণে জিতু আত্মহত্যা করতে পারেন। 

তিনি আরও বলেন, জিতুর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এসআই