জেলা প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
বাল্যবিয়ে ও মাদক থেকে দূরে রেখে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে টানার স্বপ্ন দেখেন মো. সুমন মিয়া (২৫)। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এই স্বেচ্ছাসেবী সদস্য বাল্যবিবাহের কুফল ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
সুমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফরিদপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে। তার বাবা সেলিম মিয়া। আনসার ভিডিপির উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি গঠনমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ভাবনা থেকেই বক্সিং, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় আগ্রহী হতে শিক্ষার্থী ও যুবকদের উৎসাহিত করছেন সুমন। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনের বার্তাও দিচ্ছে।
এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানান, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়; এটি শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে এবং মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
খেলাধুলার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করাও সুমন মিয়ার কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। বাল্যবিয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি।
ইতোমধ্যে সাদুল্লাপুর কেএম পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সাবেক তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন সুমন।
সাবেক তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহজালাল মিয়া বলে, সুমন ভাই আমাদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেন। তার কাছ থেকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়েও উৎসাহ পাই। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে।

সুমন মিয়া বলেন, একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা জরুরি। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে শেখায় এবং মাদকসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমার প্রত্যাশা।
মিরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়। বাল্যবিয়ে ও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সুমন মিয়ার সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও প্রশংসনীয়। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
প্রতিনিধি/এফএ