জেলা প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলির আদেশের এক মাস পূর্ণ হলেও নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। বিদায়ী ওসি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরও কেটে গেছে ১৫ দিন। এদিকে থানার সেকেন্ড অফিসার দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন, তারও বদলির আদেশ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে থানায় অভিযোগ করেও দ্রুত সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। থানার জনবল ও পুলিশি সেবা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়। পরে ২ অক্টোবর তিনি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ছাড়পত্র নেন। এরপর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ওসি পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে মো. আনিসুর রহমানকে ওসি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশুগঞ্জ উপজেলার চারতলা গ্রামের আমীর হোসেন ও লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও তারা যথাযথ সাড়া পাননি। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নানা অজুহাতে ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপণ করে। থানার সেকেন্ড অফিসার নুর আলম দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। তারও বদলির আদেশ হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে নতুন ওসি পদায়নের পাশাপাশি সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আশুগঞ্জ থানায় বর্তমানে নয়জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), ১১ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) ও ৩৩ জন কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন। আটটি ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে থানাটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে আটটি ইউনিয়নে বিট ও সহকারী বিট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের পর অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা না থাকায় অন্যান্য দায়িত্ব পালনে জনবলসংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। থানার গুরুত্ব বিবেচনায় এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. আনিসুর রহমানকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ওসি পদায়নে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেন। জেলা পুলিশ লাইনে ইন্সপেক্টর থাকা সত্ত্বেও আশুগঞ্জ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা তো অনেক সাংবাদিক রয়েছেন, যে কাউকে তো আর প্রেস ক্লাবের সভাপতি করা যায় না।
সেবাপ্রার্থীরা দ্রুত সাড়া পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগের বিষয়ে আরাফাতুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে (আলফা ওয়ান) অবহিত করবেন।
এদিকে, বদলির আদেশের এক মাস এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আশুগঞ্জ থানায় নিয়মিত ওসি পদায়ন না হওয়ায় দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/টিবি