জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসাইনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাবেক শিবির নেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছেন বিপ্লব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিপ্লব। তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে তাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার বাবার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাকে আটটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। আদালত রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আইনজীবী কামাল উদ্দিন ও রায়পুর পৌর শিবিরের সাবেক সভাপতি আইনজীবী ইমরান হোসেন পরানও বক্তব্য দেন। তাদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকার সময় লোকমান হোসাইন তাদের মারধর করে যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও তিন লাখ টাকা আদায় করেন। পরে তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের নির্দেশে পুলিশ তাকে বাসা থেকে আটক করে। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে তার চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানার এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিপ্লবের ভাষ্য, সেখানে তার দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রাখার পর রাতে মোটা লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে খাবারও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিপ্লব আরও বলেন, রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। পরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিপ্লবের দাবি, গভীর রাতে তাকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধরের পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একজন গণমাধ্যমকর্মী পুলিশ সুপারকে ফোন করে তার গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে দাবি করেন বিপ্লব।
পরে তাকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন ও শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ওসি লোকমান তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান বিপ্লব।
বিপ্লব বলেন, ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওসি লোকমান আমার বাবার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। আমাকে হারানোর ভয়ে বাবা টাকা দিতে রাজি হন। পরে দেনদরবারের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
বিপ্লবের অভিযোগ, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার বাবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাকে আটটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল বলে জানান তিনি।
বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের সময়ে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন লোকমান হোসাইন। বর্তমানে তিনি পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উত্তরা ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করেন বিপ্লব। তার প্রশ্ন, এত অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে তিনি পুলিশে কর্মরত আছেন।
বিপ্লব বলেন, লোকমান হোসাইনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন এবং তার বিচার দাবি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে লোকমান হোসাইনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এসএস