Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নাটোরে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

নাটোরের লালপুরের কদিমচিলান ইউনিয়নে ‘সার ডিলার’ নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত সার ডিলার আবেদনকারী মো. আব্দুল হান্নান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

নিয়োগবঞ্চিত আবেদনকারী মো. আব্দুল হান্নানের দাবি, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মো. বাদশা আলমকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হান্নান বলেন, কদিমচিলান ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে মেসার্স সিগমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বাদশা আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি ওই এলাকার ভোটার নন। ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয় শর্তও তিনি পূরণ করেননি বলে দাবি করেন হান্নান। বাদশা আলমের গুদামে ১০ টনের বেশি সার সংরক্ষণের সক্ষমতা নেই। এ ছাড়া ছয় মাসের ব্যাংক হিসাবেরও ঘাটতি রয়েছে। 

তিনি জানান, সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে কাগজপত্রসহ আবেদন করেছিলেন তিনি। 

নিজেকে যোগ্য প্রার্থী দাবি করে আব্দুল হান্নান বলেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার অফিসের এক পিয়নের মাধ্যমে প্রথমে তাকে টাকা দিয়ে নিয়োগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। 

তার অভিযোগ, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাদশা আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাদশা আলমের বিরুদ্ধে এলাকায় সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি। এই অনিয়োম ও দুনীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে সার ডিলার নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় সার ডিলার নিয়োগ দাবি জানান বঞ্চিত ডিলার আবেদনকারী।

তবে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার মো. বাদশা আলম। তিনি জানান, সরকারি নিয়মনীতি ও শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তার নিয়োগ হয়েছে।

লালপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, নীতিমালার বাইরে বা অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এসআই