জেলা প্রতিনিধি
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
মবকাণ্ডে স্থবির হয়ে যাওয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) কার্যক্রম স্বাভাবিক করেছে ছাত্রদল ও যুবদল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে দাফতরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করেন সংগঠনের নেতারা।
এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির। তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে রামেবিতে নিয়ে আসেন। তালা ভাঙার পর রামেবি কর্মকর্তারা দফতরে প্রবেশ করেন। তালা খোলার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, গত মঙ্গলবার মবের ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। একটা ব্যানার দেখি আপামর ছাত্র জনতা নামে। তবে তারা কেউ ছাত্র না, যুবদলেরও কেউ না তারা। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনগণের যে সরকার, সেই সরকারে কোনো মবতন্ত্র, কোনো দখলবাজি কোনো জোরজবরদস্তির সুযোগ নাই।

শরিফুল ইসলাম জনি আরও বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবেও জাতীয়তাবাদী যুবদল এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স, বিএনপি জিরো টলারেন্স। আপামর ছাত্র জনতার যে ব্যানারটা নিয়ে এরা পরিকল্পিতভাবে মব ক্রিয়েট করেছে, আমরা এটার তীব্র, প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই। এ সরকার সাম্য মানবিকতা ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। তাই আমরা আইন মেনে রামেবির কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রেখেছি।
রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকরী ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন জানান, আজ সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তার কক্ষে নিয়ে যাবেন। এরপর উপাচার্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবারের ঘটনা ও মামলা: গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে একটি কাগজে জোরপূর্বক সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্যমতে, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি সই করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন— মো. আলী আকবর হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি