জেলা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আগের রাতে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটেছে। প্রায় দুই ঘন্টার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহখানে আগে সুনামগঞ্জের মধ্যতাহিরপুর এলাকার মাঠে ক্রিকেট খেলছিল একদল কিশোর। তখন পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে একটি ইজিবাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। এক পর্যায়ে মাঠ থেকে বল গিয়ে পড়ে ইজিবাইকের সামনের কাঁচে।
এ নিয়ে মধ্যতাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের ইজিবাইক চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বীরনগর গ্রামের এক কিশোরের। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন বীরনগর গ্রামের এক যুবককে তাহিরপুর বাজারে মারধর করে মধ্যতাহিরপুর গ্রামের দুই ব্যক্তি।
এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে মধ্যতাহিরপুর গ্রামের লোকজন এবং বরীনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষীপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবার দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে বাজারে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সকালে যার যা আছে তা নিয়ে মাঠে থাকার জন্য।
মাইকের এই ঘোষণার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাতেই সেখানে অবস্থান নেয়। সকালে লোকজনও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু উভয় পক্ষের লোকজন বেশি হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফের সংঘর্ষে আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন পুলিশ এবং দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। বুধবার সকালে দুই পক্ষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০-৪০ আহত হয়েছেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন আছে। এখন পরিস্থিতি থমথমে।
এসএইচ/এমআর