জেলা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ এএম
নেত্রকোনার মদনে এক কলেজ শিক্ষকের শ্বশুরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা লুটের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকসহ তিন নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন— আফরোজা আক্তার স্মৃতি (৩৬), লায়লা আক্তার লাবনী (৩২) ও তাদের মা মিলন আক্তার (৫৫)। তাদের মধ্যে আফরোজা আক্তার স্মৃতি ও লায়লা আক্তার লাবনী স্থানীয় সরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মদন থানায় সোমবার (৫ অক্টোবর) অভিযোগ করেন গিয়াস মাহমুদ ওরফে রুবেল (৪৩)। তিনি মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক। অভিযোগে আফরোজা আক্তার স্মৃতি, লায়লা আক্তার লাবনী, মিষ্টি আক্তার, মিলন আক্তার ও আব্দুল হাকিমকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মদন পৌরসভার পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর এলাকায় গিয়াস মাহমুদের শ্বশুরবাড়িতে কয়েকজন নারী অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা মূল দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সেখানে থাকা ভাড়াটিয়া হাফসা আক্তারকে মারধর করেন। একপর্যায়ে একজন তার বুকের ওপর উঠে গলায় চাপ দেন এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা গিয়াস মাহমুদের অসুস্থ শাশুড়িকে মারধর ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায় বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গিয়াস মাহমুদের স্ত্রীসহ আরও কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
গিয়াস মাহমুদের অভিযোগ, পরে হামলাকারীরা তার শাশুড়ির শয়নকক্ষে থাকা একটি আলমারি ভেঙে তার স্ত্রীর ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা, এবং চিকিৎসার জন্য রাখা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া মোবাইল ফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে আহতদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত গিয়াস মাহমুদের শাশুড়িকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ বা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিনিধি/টিবি