জেলা প্রতিনিধি
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রবাসী স্বামীকে ভিডিওকলে রেখে বিষপান করেছেন ঝুমুর খানম সেতু (২৭) নামে এক গৃহবধূ।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামে বাবার বাড়িতে বিষপান করেন তিনি।
আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান।
ঝুমুর উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, স্বামী শাহারিয়ার সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার একপর্যায়ে ঝুমুর বিষপান করেন। পরে তাঁকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতে তাঁকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আজ (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঝুমুরকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন।
ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খান অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন কারণে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, ৫০০ বরযাত্রী না আনা এবং মেয়েকে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার বিষয় নিয়েও তাঁকে কথা শুনতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাহারিয়া কাজী কাজের জন্য কুয়েতে যাওয়ার পর তাঁর মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া এবং নাজমিনের স্বামী সাইদুল হাওলাদারের কারণে ঝুমুরের ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঝুমুরকে মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে থাকছিলেন।
করিম খানের দাবি, ঘটনার রাতে শাহারিয়া ভিডিওকলে ঝুমুরের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে বিষপান করে মরে যেতে বললে ঝুমুর বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গৃহবধুর স্বামী শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা।
ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।