জেলা প্রতিনিধি
০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি হোটেলে নাশতা করার সময় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে এক ধান ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের ২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থিত 'এস এম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট'-এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের নারী ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত ধান ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন বগুড়ার শেরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাওয়ার পথে ট্রাকচালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আক্কেলপুরের এস এম হোটেলে নাশতা করতে যান। ধান কেনার জন্য তার ব্যাগে নগদ ৫ লাখ টাকা ছিল।
ব্যবসায়ী লিটন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রাখি। খাওয়া শেষে বিল দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে যাই।
এক মিনিটের মাথায় ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে দেখি চেয়ারে টাকার ব্যাগটি নেই, এমনকি ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারও অনুপস্থিত। ওই সময়ে বাইরে থেকে কেউ হোটেলে ঢোকেননি।
বিষয়টি হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের জানালে তারা টাকা নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ট্রাকচালক আলম হোসেন জানান, লিটন ভাই পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন। আমি আগে বের হয়ে পাশের চায়ের দোকানে বসি।
লিটন সেখানে এলে ব্যাগের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি ব্যাক করেন, কিন্তু গিয়ে দেখেন ব্যাগটি নেই। এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাগটি কীভাবে উধাও হলো তা হোটেল কর্তৃপক্ষ বা কর্মচারীরা স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না।
খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালায়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের নারী ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নেওয়া হয়।

হোটেল মালিক সোলাইমান আলী জানান, ছুটির দিন হওয়ায় সকালে কিছু ভিড় ছিল। আমি স্ত্রীকে ক্যাশে বসিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম। এসে দেখি পুলিশ এসেছে। হোটেলের কারও কাছে টাকা পাওয়া যায়নি এবং ভেতরে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তারা এখনো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একেএস/এআরএম