জেলা প্রতিনিধি
০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা। কথাটিই যেন সত্য প্রমাণ করেছেন বরগুনার ৯৫ বছর বয়সী প্রবীণ কৃষক রুস্তম আলী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও থেমে যাননি তিনি। চুক্তিতে নেওয়া প্রায় দেড় একর জমিতে গড়ে তুলেছেন দেশি শাহী জাতের পেঁপের বাগান। তাঁর পরিশ্রম ও সাফল্য এখন স্থানীয়দের কাছেও অনুপ্রেরণার গল্প।
বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমতলী-নিমতলী এলাকায় গড়ে ওঠা বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৫০টি পেঁপেগাছ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও সকাল হলেই বাগানে ছুটে যান রুস্তম আলী। কখনো হেলে পড়া গাছ সোজা করেন, কখনো আগাছা পরিষ্কার করেন, আবার কখনো গাছের পেঁপে পরিপক্ব হয়েছে কি না, তা দেখে নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া রুস্তম আলী নিজ হাতেই পেঁপেগাছের পরিচর্যা করছেন। তার ব্যতিক্রমী কৃষিকাজ দেখতে স্থানীয় অনেকেই বাগানে আসেন।
স্থানীয় মোমেনা, আমিনুদ্দিন ও রুবেলসহ কয়েকজন বলেন, এই বয়সে যেখানে মানুষ ঘরে বসে বিশ্রাম নেন, সেখানে রুস্তম চাচা যেভাবে মাঠে কাজ করছেন, তা অবাক করার মতো। তার অদম্য মনোবল তাদেরও চাষাবাদে উৎসাহিত করেছে। তারাও ছোট পরিসরে বাড়িতে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
শুধু বাগানের পরিচর্যাই নয়, উৎপাদিত পেঁপে নিজেই বরগুনা বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন রুস্তম আলী। প্রতি সপ্তাহে পেঁপে বিক্রি করে তার নিট আয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে অন্তত দুই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তার।

রুস্তম আলী বলেন, ‘কাজ করতে পারলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। অলস বসে না থেকে জমিতে পরিশ্রম করি। এতে আয়ও হচ্ছে, মনও ভালো থাকছে। কয়েক বছর ধরে পেঁপে চাষ করছি। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। তরুণদের বলব, বেকার বসে না থেকে চাষাবাদ করে নিজেরাই আয় করো।’
রুস্তম আলীর ছেলে হাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আমার বাবার বয়স ৯৫ বছর। এই বয়সেও প্রতিদিন সকালে উঠে জমিতে কাজ করতে আসেন। চুক্তিতে নেওয়া দেড় একর জমিতে তার একার প্রচেষ্টায় প্রায় সাড়ে ৩৫০টি পেঁপেগাছ ফলন দিচ্ছে। তিনি নিজেই পেঁপে তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। বাবার এই বাগান আমাদের সংসারে বাড়তি আয়ের উৎস হয়েছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরগুনা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জেলায় ২১৪ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরগুনার অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ সিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘বৃদ্ধ রুস্তম আলীর পেঁপে চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের নজরে এসেছে। তাকে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
৯৫ বছর বয়সেও মাঠে নেমে পেঁপে চাষ করে চলেছেন রুস্তম আলী। তার কাছে কৃষিকাজ শুধু আয়ের মাধ্যম নয়, কর্মচাঞ্চল্য ধরে রাখারও এক উপায়। তার এই উদ্যোগ বয়সকে পেছনে ফেলে স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প হয়ে উঠেছে।
প্রতিনিধি/এসএস