জেলা প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার চাচাতো চাচা জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনোরকম আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ইতঃপূর্বেও যে ন্যক্কারজনক জনক ঘটনা ঘটেছে তার পাশে আইনজীবীরা দাঁড়ায়নি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মত যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার পক্ষে দাঁড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কোন আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে আইনি সহায়তা দিবেনা। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পাদন করতে সকল আইনজীবীরা কাজ করবে। এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন পয়েন্টে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে সে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় ঘাতক জাহিদুল স্বীকার করে সে মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশচাঁপা ও গলা টিপে হত্যা করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে।
উল্লেখ, গত শুক্রবার দুপুরে ঘাতক জাহিদুল মাহিদাকে পানি খাওয়ার কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যায়৷ সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম তার মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহ বসত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করলে তার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মাহিদাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার পর পরই জাহিদুলকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
প্রতিনিধি/ এজে