ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শিশু মাহিদা আক্তারকে (৬) ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া এ তথ্য জানান।
নিহত মাহিদা আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মো. মোজাম্মেলের মেয়ে। সে স্থানীয় ফাতেমা নূন নেছা মাদরাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।
শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন তার মা মনিরা আক্তার। বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
জাহিদুল আন্দিদিল গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে। সম্পর্কে মাহিদার চাচাতো চাচা হন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরা আক্তার তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জেলা সদরের চিকিৎসকের কাছে যান। মাহিদা তার সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করছিল। দুপুরে মাহিদাকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলেন চাচা জাহিদুল। মাহিদা কলসে করে পানি এনে দেয়। এ সময় জাহিদুল পানি নিয়ে তার সাথে ঘরে যেতে বলে মাহিদাকে। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর বালিশচাপা এবং গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে মনিরা বাড়িতে ফিরে মাহিদাকে না পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হন। এরপর মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় জাহিদুলের ঘরে পান। তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহিদার মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সাধারণত আমি একাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করি। কিন্তু যেহেতু অভিযোগ ছিল মাহিদাকে ধর্ষণ করা হয়েছে- সেজন্য ময়নাতদন্ত করার সময় হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কামরুন্নারও ছিলেন আমার সঙ্গে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি মাহিদাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কামরুন্নাহার।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তে মাহিদার মৃত্যুর দুইটি কারণ জানা গেছে। একটি হচ্ছে তাকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আরেকটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশু হওয়ায় ধর্ষণের ফলে রক্তক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।
শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ও আশগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, বিকেলে জাহিদুলকে আদালতে হাজির করা হলে সে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




