জেলা প্রতিনিধি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মাটি ধসে নিহত হয়ে অবশেষে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটি ধসে চাপা পড়ে নিহত হন শরিফুল। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। সেই স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ের বদলে নিথর মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।
শরিফুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান। তার মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা ও পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে শরিফুলের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অবশেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় শরিফুলের মরদেহবাহী কফিন। পরে শনিবার সকালে কফিনবন্দি মরদেহটি টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণি গ্রামের পরিবেশ। পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া শরিফুল ফিরলেন নিথর দেহে।
পরে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে শরিফুল ইসলাম ফকিরকে বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শরিফুলের মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে। প্রবাসে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের এমন করুণ পরিণতিতে শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
প্রতিনিধি/এসএস