Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই—বাঁশের মাচায় নদী পারাপার

জেলা প্রতিনিধি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত একটি সেতু। নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ৯০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। কিন্তু কাছে গেলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। সেতুতে ওঠার মতো পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সড়ক নেই। ফলে ১২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত সেতু থাকলেও নদী পার হতে হচ্ছে বাঁশ-কাঠের নড়বড়ে মাচা দিয়ে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার থিরোপাড়া এলাকায় পদ্মার শাখা হুগলি নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির এমন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, বয়স্ক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে ২০২১ সালে থিরোপাড়া সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মূল নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে। তবে সেতুর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। তবে দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে আছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সেতুটি কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না।

দক্ষিণ পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী মাচা তৈরি করেছেন। নদী পারাপারে এখন সেটিই তাদের প্রধান ভরসা।

দীর্ঘদিন ব্যবহারে মাচাটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বাঁশ-কাঠের ওপর পা রাখলেই দুলতে থাকে পুরো কাঠামো। একটু অসতর্ক হলেই নিচের নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবু বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই চলাচল করছেন পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে মাচা পারাপারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

dae3275b-eb6c-4776-acf8-819087838917

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেশি

প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য এই পথ ব্যবহার করেন বহু শিক্ষার্থী। নড়বড়ে মাচা দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ভেজা বাঁশ-কাঠ পিচ্ছিল হয়ে পড়লে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়া, ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের পরও যদি চলাচলের উপযোগী সংযোগ সড়ক না থাকে, তাহলে এত বড় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। তাদের দাবি, দ্রুত দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পুরোপুরি চালু করা হোক।

আরও পড়ুন

সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, হাসপাতালে ছড়াচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের দুর্গন্ধ

নকশা পরিবর্তনের পরিকল্পনা

এলজিইডি জানিয়েছে, দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিদ্যমান পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনে সংযোগ সড়কের নকশা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রায় ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ থিরোপাড়া সেতুটি এখন দাঁড়িয়ে আছে পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সড়কের অপেক্ষায়। নদীর ওপর সেতু হয়েছে, কিন্তু সেই সেতু দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে কোটি টাকার সেতুর পাশে নড়বড়ে বাঁশের মাচাটিই হয়ে আছে হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা।

প্রতিনিধি/এসএস