শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, হাসপাতালে ছড়াচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের দুর্গন্ধ

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, হাসপাতালে ছড়াচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের দুর্গন্ধ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও স্বজনেরা। হাসপাতালের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতাল চত্বরে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে বহির্বিভাগের আশপাশে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে রোগী ও স্বজনদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান। ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বহির্বিভাগের সামনে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। টিকিট কাটা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করার সময় তাদের দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে।

হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’

আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে চিকিৎসা ও স্বস্তির জন্য। কিন্তু এখানে এসে উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।’

19cd74f0-7266-448f-8595-e4eab8463a5d

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীরে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর। তার ওপর পচা গন্ধের কারণে এখানে এক মুহূর্তও টেকা যাচ্ছে না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা হচ্ছে।’

সংস্কারকাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

ফরিদপুরে এনসিপি নেতার কারখানায় আবারও অভিযান, বিপুল অবৈধ ওষুধ জব্দ

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ দেওয়া নয়, রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও চিকিৎসাসেবার অংশ। ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর