জেলা প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
এমপিও কাগজপত্রে কারসাজি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেলের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যেই বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিয়মবহির্ভাবে নেওয়া সরকারি অর্থ ফেরত এবং দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লিখিত অভিযোগ করেন পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান কবির ১৯৯৫ সালে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন বিএড স্কেল গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও শাহজাহান কবির প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেল কোড বসান। এরপর নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০০৫ সাল থেকেই টাইম স্কেল এবং পরবর্তীতে উচ্চতর স্কেলের সুবিধা নেন। এতে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এমপিও নিয়ে এমন অভিযোগের মধ্যেই শাহজাহান কবির বকুলকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের কোনো বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই একক ক্ষমতাবলে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটির দুজন সদস্য দাবি করেছেন, শাহজাহান কবিরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার বিষয়ে তারা অবগত নন। এমনকি এ সংক্রান্ত রেজুলেশনেও তারা কোনো স্বাক্ষর করেননি বলে জানিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় বৈধ সিদ্ধান্ত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতি ছাড়া কীভাবে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এমপিও সংক্রান্ত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত আনা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া দায়িত্ব বাতিল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহজাহান কবির বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, অভিযোগটি আমি পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি