বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালকসহ দালাল চক্রের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
শনিবার বিকালে রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল নজরদারি চালায়। পরীক্ষাকেন্দ্র রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের সময় আশরাফুল ইসলাম (২১) নামে এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহ হলে তাকে আটক করে যাচাই করা হয়। পরে তাকে কেন্দ্রের ভেতরে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আশরাফুল স্বীকার করেন, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। তার স্বীকারোক্তির পরেই তার হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসা তাজমিলুর রহমানকে (১৯) আটক করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, রংপুরের ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম ও নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তার বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমাও দেন। টাকা জমা দেওয়ার পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। তবে এর আগে নিয়োগের নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। এর পরও ওই জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
আরও পড়ুন
ফুলগাজীতে ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি: উপজেলা পরিষদের সেই ৩ কর্মচারী বরখাস্ত
পরে আশরাফুলের দেওয়া তথ্যে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, আর্থিক লেনদেন ও জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম দাবি করেন, নুরুল ইসলামসহ আরো দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। চক্রটি জাল প্রবেশপত্র তৈরি করার পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত।
পরে মহানগর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘বাংলাদেশ পুলিশের যে কোন নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের স্থান নেই। যারা এই চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




