২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মরজিনা বেগম (৩৯)।
পিবিআই জানায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী (৫৪) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে থাকতেন। গত বছরের ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রসহ তিনটি গাড়ি নিয়ে তার বাসার সামনে যায়।
পরে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত একটি ভবনের কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা।
পিবিআই আরও জানায়, আটকের দুই দিন পর ইদ্রিস আলীকে মারধর করে সেই নির্যাতনের ভিডিও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের মোবাইলে পাঠানো হয়। স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে ফাতেমা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই টাকা পাঠান। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও ইদ্রিসকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। তাকে দিনে মাত্র এক প্যাকেট রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা থাকলেও মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়। অপহরণের এক মাস ১৪ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইদ্রিসকে লিবিয়ার ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত ২২ জুলাই দেশে ফেরেন।
এই ঘটনায় ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন ও মরজিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
পিআইবি জানায়, মরজিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
প্রতিনিধি/এএম