জেলা প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী গেট সংলগ্ন একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগ তুলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চারজনের নাম উল্লেখ করে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির এক মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আজমল (২২) নামে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ওইদিন রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয়ে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে আসার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা বাড়ি মালিকদের ভাষ্য মতে, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটা বিল্ডিং থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে বাইরে এসে দেখা যায় একটি ছেলে নিচে পড়ে আছে। এসময় তাকে পানি দেওয়া হয়। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অ্যাম্বুলেন্সে করে নির্যাতনকারীরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি সে মারা গেছে।
প্রতিনিধি/টিবি