জেলা প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশস্থল জিলা স্কুল মাঠ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঠ ছাড়িয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ও আশেপাশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেখা যায়, ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর আসার অনেক আগেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়েছে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ। মাগরিবের নামাজ মাঠেই আদায় করেছেন নেতাকর্মীরা। মাগরিবের আগে থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দিচ্ছেন।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। দুপুরের পর এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে থাকে। মাগরিবের আগেই সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। এসময় নেতাকর্মীদের হাতে হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্লাকার্ড দেখা যায়।
পঞ্চগর থেকে আসা মাঠে উপস্থিত জামায়াতের কর্মী আব্দুল খালেক বলেন, দুপুরের মধ্যে মাঠে উপস্থিত হয়েছি। জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজ এখানেই আদায় করা হয়েছে। সমাবেশ শেষ করে রাতেই পঞ্চগড় ফেরার কথা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা জাতীয় নাগরিক কমিটির কর্মী আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রাম থেকে কয়েকটি বাসে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে আসা হয়েছে। আমরা চাই, সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করুক। তাহলে সরকারেরও ভালো, আমাদের জন্য ভালো।
নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের তুলনায় রংপুরমুখী কর্মসূচিতে আরও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
সেই অনুযায়ী মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সমাবেশের বক্তব্য যেন দূর-দূরান্তের মানুষ শুনতে পান, সেজন্য পুরো এলাকায় প্রায় ২০০টি মাইক টাঙানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলমুখী এই লংমার্চে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলের সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবি তোলা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের অন্যতম দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে এই লংমার্চের দাবির সঙ্গে।
এদিকে, লংমার্চ ঘিরে রংপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লংমার্চ শেষ করতে পারে ১১ দলীয় ঐক্য।
প্রতিনিধি/এলএ