জেলা প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে এক তরুণী গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পূবাইল থানার তালটিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) নামে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা পূবাইল থানার সাতানীপাড়া এলাকার মো. আফসার মিয়ার বড় মেয়ে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মেহেদী হাসান মারুফ (২৪) পলাতক রয়েছেন। মারুফ খিলগাঁও এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে প্রবাসে থাকা অবস্থায় মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্নিগ্ধার বিয়ে হয়। দেড় মাস আগে মারুফ দেশে ফিরে কাজীর মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তবে মারুফের পরিবার এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা তালটিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি ভবনের ছাদের চিলেকোঠায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহের জেরে স্নিগ্ধাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।
স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ছোট বোন সিনথিয়ার সঙ্গে স্নিগ্ধার শেষ কথা হয়। পরদিন শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাসার অন্য এক ভাড়াটিয়া মারফত পরিবার খবর পায় যে স্নিগ্ধা ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তোষকের ওপর তার লাশ দেখতে পান। ঘটনার আগে সকাল ১০টার দিকে মারুফ তার ব্যাগ ও জিনিসপত্র গুছিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় মারুফ তার সহযোগীদের নিয়ে স্নিগ্ধাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আফসার মিয়া পূবাইল থানায় মারুফসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে পূবাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ