Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ১

জেলা প্রতিনিধি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে (৩৮) ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই মো. রাজীব (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়াসহ (২১) পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। তারা প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।

এরপর যুবকরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। আলমারিতে থাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এরপর ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানায়।

এ সময় রাজীব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে জানান ভুক্তভোগী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। রাতেই পুলিশ অভিযানে নামে। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। এ সময় অন্য চারজন পালিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।

গৃহবধূর দেবর জানান, বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন তার ভাবি। দুর্বৃত্তরা তার ভাতিজাকে জিম্মি করে মাকে ধর্ষণ করেছে। শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা জড়িতদের উপযুক্ত বিচার চান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ওই নারী পুলিশের কাছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণ করেছেন এবং অন্যরা বাইরে ছিলেন। তার ছেলেকে জিম্মি করে রাখার এবং বাড়িতে ভাঙচুর করে টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে মনতোষ বিশ্বাস আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে। ভিডিও ধারণের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ