জেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মুরগির খামারের বর্জ্য এখন আর শুধু দুর্গন্ধের কারণ নয়, বরং হয়ে উঠেছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎস। স্থানীয় উদ্যোক্তা সালেহ আহমেদের উদ্যোগে খামারের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমছে, তেমনি কমেছে জ্বালানি ব্যয়ও।
উদ্যোক্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ২০০১ সালে মাত্র এক হাজার লেয়ার মুরগি দিয়ে খামার শুরু করেছি। বর্তমানে আমার খামারে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মুরগি। ২০০৫ সালে প্রথম বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পর ধাপে ধাপে এখন প্ল্যান্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। এসব প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস এলাকার প্রায় ৩০টি দোকান ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে ঝিনাইগাতী বাজার ও আশপাশের আরও অনেক আবাসিক এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বায়োগ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বায়োগ্যাস ব্যবহারের ফলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং মাসিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহের ঝামেলাও কমেছে।
এদিকে, সালেহ আহমেদের এ উদ্যোগ দেখে এলাকার আরও কয়েকজন খামারি নিজেদের খামারে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেজাউল হক ভূঁইয়া বলেন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধান। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া বায়ো-স্লারি উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব খামার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা বাড়লে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে জেলার আরও অনেক মানুষ স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সুবিধা পাবেন।
প্রতিনিধি/এফএ