Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের দায়ে শিবিরসমর্থিত ডাকসু ও ছাত্রদল নেতার শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।  তাদের একজন পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনে গুগলের এআই সেবা জেমিনি ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিলেন। অন্যজন পরীক্ষা চলাকালে হল থেকে বেরিয়ে স্মার্টফোনে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শাস্তি পাওয়া দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরী এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ফেরদাউস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা +২’ এবং ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা +১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কারিবের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় এবং ফেরদাউসের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি পরীক্ষা চলাকালে কারিব চৌধুরীকে দুই পায়ের মাঝখানে মোবাইল ফোন রেখে ব্যবহার করতে দেখেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। পরে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে জেমিনিতে ওই পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তথ্য পাওয়া যায়।

ফেরদাউসের ঘটনাটি ঘটে বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষায়। পরীক্ষা চলাকালে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তিনি হল থেকে বের হন। পরে বিভাগের করিডরে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্মার্টফোন নিয়ে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাকে আটক করেন। পরে ওই ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া যায় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। এরপর অসদুপায়ের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী তার পরীক্ষার খাতা রিপোর্ট করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠান।

পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদে যায়। গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় শাস্তির সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, ‘পরীক্ষা +১’ শাস্তির অর্থ হলো, যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা হয়েছে সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা। একইভাবে ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী যথাক্রমে দুটি ও তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।

একই সিন্ডিকেট সভায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

তবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরীক্ষার উত্তর খোঁজার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ফেরদাউস। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের রাত থেকে তার ছোট ভাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। সকালে বাড়িতে ফোন করে ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পান। এ কারণে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

ফেরদাউসের ভাষ্য, পরীক্ষা চলাকালে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য হল থেকে বের হওয়ার পর বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন ছোট ভাইয়ের খবর নিতে ওই শিক্ষার্থীর ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে কল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষয়টি দেখার পর তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নেতা হোক অথবা ছাত্রদল হোক, অভিযোগের প্রমাণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।’

এমএইচ/এআরএম