জেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ এএম
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আপন দুই ভাই মিরাজ খান (৩০) ও মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হন। তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিরাজ খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মিরাজ খানের বাবা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা চলছিল। কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় কালিকাপুর একাদশের টিম লিডার মিরাজ খানকে প্রতিপক্ষ দলের টিম লিডার রাকিব তালুকদারের লোকজন ইট দিয়ে মুখে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে মিরাজের মুখ গুরুতর জখম হয়। পরে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মিশন খান (২৭), জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী (২৫), সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), শাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮) ও মানিক (২৫), রনি প্রমুখ।
ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, ‘চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ দায়ী। তাদের কারণে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এমনকি খেলা পরিচালনা কমিটির লোকজনের গায়েও হাত তোলা হয়েছে।’
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস