জেলা প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অপরাধপ্রবণ এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে একাধিক স্থানে তল্লাশি চালালেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। যা সাড়ে ৫টার দিকে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকায় অন্তত দেড়লাখ মানুষ বাস করেন। বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় অপরাধ-প্রবণতা বেশি এই এলাকাটিতে। চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার অপরাধীরা আত্মগোপনের উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরকে বেছে নেন।
স্থানীয়ভাবে তিনটি প্রধান গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার করে সলিমপুরে। এরমধ্যে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপ থাকে আলোচনায়। সরকারি পাহাড় হলেও এই গ্রুপগুলো নিজেদের মতো করে বিক্রি করেন পাহাড়। নিজেরাই লিজ দেন এলাকায় বসবাসরতদের। এ ছাড়াও জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল অস্ত্রের মজুতের কথাও শোনা যায় বিভিন্ন মহলে।
এই এলাকায় স্থানীয়রা ছাড়া বাইরের কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। প্রবেশ মুখগুলোতে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বা গেটপাস দেখিয়েই যেতে হয় জঙ্গল সলিমপুরে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে এখানে।

১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব-৭ এর সদস্য মো. মোতালেব হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। ঘটনার পরদিন র্যাবের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১৫০ জনকে।
সর্বশেষ ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ’ সশস্ত্র অপরাধীরা ভারি বুলডোজার নিয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়কের বিভিন্ন স্থানে কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়।
এই হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
প্রতিনিধি/এফএ