জেলা প্রতিনিধি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ফরিদপুরে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এক চায়ের দোকানদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ সময় আহত হন তিনজন।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে এবং ২৬ জুন খুন হওয়া সুমন শেখের চাচা।
আহতরা হলেন- মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। তাদের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানায়, রবি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে একই এলাকার আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
আরও পড়ুন
তারা কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে ওঁৎ পেতে থাকা সশস্ত্র একদল লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত রবি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সঙ্গে থাকা তিনজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।
এ বিরোধের জের ধরে চলতি বছরের ২৬ জুন সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখকে (২৪) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সুমন ছিলেন রবির ভাই আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ হত্যাকাণ্ডের পরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করারও ঘটনা ঘটে।
সুমন হত্যার ঘটনায় করা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায়। এরপর এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সুমন হত্যার পর থেকেই তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাদের দাবি, আগের হত্যাকাণ্ডের পর বিরোধের জের অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত সুমনের চাচা রবিউল ইসলামকেও প্রাণ দিতে হলো।
তবে জামিনে থাকাদের কেউ রবি হত্যায় জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আড়াই মাসের ব্যবধানে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ