Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

৩০ বছরের অপেক্ষা, ভাসমান সেতুই ভরসা কৃষকদের

জেলা প্রতিনিধি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষক ও শিক্ষার্থীরা। কৃষকদের প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু দিয়ে খাল পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এসব গ্রামে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এ অঞ্চল থেকে পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত সবজি বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার বাজারে আসতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পথে দীর্ঘ তিন দশকেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক কনটেইনার গায়েব, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত পাখিমারা খাল পারাপারে বর্তমানে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর তৈরি ভাসমান কাঠের সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা সেতুটি মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

কুমিরমারার প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, ‘৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হয়নি।’

90b5c4e3-6496-4320-a9b7-e20e9fe56289

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণে ভালো মানের খুঁটি ও স্লিপার সরিয়ে নিম্নমানের বা অকেজো মালামাল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর এ পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত উন্নত করা প্রয়োজন। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পক্ষ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন হয় না বলেও অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার পথে। নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস