জেলা প্রতিনিধি
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সড়কজুড়ে কাদাপানি। পানির নিচে লুকিয়ে আছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামনে এগোতে হলে চালকদের অনুমান করে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। একবার চাকা গর্তে পড়লে ক্ষতি হচ্ছে গাড়ির, কখনো ঘটছে দুর্ঘটনা। রোগী নিয়ে যাঁরা এই পথে চলেন, তাদের কাছে বর্ষা যেন নতুন আতঙ্ক। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সিন্দুরখান সড়কের বর্তমান চিত্র এটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টি এলেই জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাটের সাময়িক উদ্যোগ নয়, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা প্রয়োজন। দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আগামী বর্ষায় দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সম্প্রতি সরেজমিনে সিন্দুরখান সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে জমে আছে কাদাপানি। ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি পার হতে হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কোথাও কোথাও যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের এই দুরবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে জরুরি রোগী বহনের ক্ষেত্রে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও খানাখন্দ ও কাদাপানির কারণে যানবাহনের গতি কমাতে হচ্ছে। কোথাও গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে সময়ও নষ্ট হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে এই সড়ক রোগীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে একই অবস্থা। কখনো মাটি, কখনো ইট কিংবা অন্য উপকরণ ফেলে গর্ত ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি এলেই সেই সংস্কার ভেস্তে যায়।

সিন্দুরখান রোডের বাসিন্দা শাহাদাত খান বলেন, ‘বৃষ্টি এলেই আবার গর্ত আর কাদাপানি তৈরি হয়। সড়কটি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’
স্থানীয় গাড়িচালক আফতাব মিয়া বলেন, ‘গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। কোন জায়গায় কত বড় গর্ত, বোঝা যায় না। গাড়ি চালানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত অর্থবছরে মৌলভীবাজার জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন সড়কের রুটিন মেইনটেইন্যান্সের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর আওতায় সিন্দুরখান রোডের কাজ পান ঠিকাদার মো. মুহিবুর রহমান।
সম্প্রতি সিন্দুরখান সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশের রুটিন মেইনটেইন্যান্সের কাজ শেষ করেছেন জানিয়ে মো. মুহিবুর রহমান বলেন, রুটিন মেইনটেইন্যান্সের আওতাভুক্ত নির্ধারিত কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাকিব বলেন, সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের জন্য এ বছর একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে স্থায়ীভাবে সংস্কারকাজ শুরু হবে।
মৌলভীবাজার জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। সিন্দুরখান রোডের রুটিন মেইনটেইন্যান্সের বিষয়টি আমার জানা নেই। এসে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস