জেলা প্রতিনিধি
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
এশিয়া মহাদেশের প্রথম ও বাংলাদেশের একমাত্র পানি জাদুঘর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। নদ-নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের আরও উদ্যোগী করে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি দ্বিতল ভবনে গড়ে উঠেছে পানি জাদুঘরটি। রোববার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এটি।
জাদুঘর পরিদর্শনে স্কুলশিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ১০ টাকা, পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দাদের ২০ টাকা এবং অন্যান্য পর্যটকদের ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হয়।
২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর পানি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। জাদুঘরের নকশা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।

জাদুঘরে বাংলাদেশের নদ-নদীর ইতিহাস, বিভিন্ন নদীর পানির নমুনা, নদীর ছবি, নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের নানা চিত্র ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে গ্রামবাংলায় মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ, নদী নিয়ে গান, পল্লিশিল্প এবং কাঁসা ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র।
বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে এখানে। সংরক্ষণ করা হয়েছে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, আন্ধারমানিক ও মেঘনাসহ ৯০টির বেশি নদীর পানির নমুনা।
জাদুঘরের সামনে রাখা হয়েছে একটি নৌকা। নৌকাটির অর্ধেক বালুর মধ্যে ডোবানো। নদী মরে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে এটি স্থাপন করা হয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের জীবনও কীভাবে সংকটে পড়ছে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে এর মাধ্যমে। নৌকার গায়ে বিঁধে থাকা দুটি গজাল নদীমাতৃক দেশকে ধ্বংসের চেষ্টার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জাদুঘর দেখতে আসা পর্যটক মো. রফিক রিয়া বলেন, ‘পানি জাদুঘরে এই প্রথমবার এলাম। দেখে খুব ভালো লাগল।’
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সেলিম খান বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনেছি, এশিয়ার মধ্যে এটি প্রথম পানি জাদুঘর। এ জন্যই দেখতে এসেছি। এখানে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি রয়েছে, যা এক জায়গায় বসে দেখা যায়।’
জাদুঘরের পরিচালক লিপিমিত্র বলেন, বর্তমানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আগে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও এখন গড়ে মাত্র ৩ থেকে ৫ জন দর্শনার্থী আসেন। এতে জাদুঘরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আয় ও পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে জাদুঘরের অবকাঠামো সংস্কার, প্রদর্শনী উপকরণ সংরক্ষণ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানি জাদুঘর পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, ‘এ জাদুঘর উপকূলীয় মানুষের আত্মত্যাগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। নদী ও পানিসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি এটি তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।’
প্রতিনিধি/এসএস