Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৫, কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আবারও গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনের শরীরে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় খামারি ও পশুর মালিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে রোগটি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংক্রমিত ব্যক্তিরা হলেন আবদুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে খায়রুল ইসলাম (৩৫), নবীর হোসেনের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (৫০), আজিজল হকের ছেলে আজগর আলী (৪৮), আজির উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন (৫০) ও হাবিজার রহমানের ছেলে নাজমুল হক (৪০)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে।

বেলকা ইউনিয়নের খামারি শামীম সরকার বলেন, অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই শুধু প্রাণিসম্পদ দফতরের তৎপরতা চোখে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাদের আর খোঁজ থাকে না। নিয়মিত টিকাদান ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ দফতরের গাফিলতির কারণে অনেক খামারি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সংক্রমিত জাহেদুল ইসলাম বলেন, তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। তার ভাষায়, ‘জীবাণু আছে কি না, সেই আতঙ্ক ভেতরে ভেতরে কাজ করছে। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো লোক খোঁজ নেননি। তবে পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন। তারা গরু-ছাগলগুলোকে টিকা দিচ্ছেন।’

পৌরসভার কসাই নয়া মিয়া বলেন, ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে সপ্তাহে প্রায় ৩০০ গরু জবাই হয়। পৌরসভার গরুগুলো পরীক্ষা করে জবাই করা হয়। বাকি ১৫ ইউনিয়নের বিষয়ে তিনি জানেন না।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমি চৌকিদারের মাধ্যমে জেনেছি। শুনলাম, পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন। তারাও আমাকে কিছু বলেননি। সরকারি কোনো মনিটরিং নেই। সে কারণেই এ অবস্থা।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, গত মাসের ২৫ তারিখে একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। তারা এ বিষয়ে খবর পান ৩১ তারিখে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে আর মাংস পাওয়া যায়নি। কারও ফ্রিজে মাংস রাখা হয়েছে কি না, সেটিও জানার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এক মাসের ব্যবধানে গভীর সমুদ্রে ফের ডাকাতির অভিযোগ, মাছ-জাল ও তেল লুট

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ, অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা উপজেলা পর্যায়ে তো দূরের কথা, জেলা পর্যায়েও রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া কোনো গরু জবাই করার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের। ভবিষ্যতে পরীক্ষা ছাড়া যেন কোনো গরু জবাই করা না হয়, সে বিষয়ে কসাইদের নিয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করা হয়। মাংস কাটাকাটির কাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ১১ জন। চার দিন পর, ২ অক্টোবর তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দেয়। বিশেষ করে হাত, নাক, মুখ ও চোখে এসব উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। এ ছাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত ছয়জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

প্রতিনিধি/এসএস