রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এক মাসের ব্যবধানে গভীর সমুদ্রে ফের ডাকাতির অভিযোগ, মাছ-জাল ও তেল লুট

উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

এক মাসের ব্যবধানে গভীর সমুদ্রে ফের ডাকাতির অভিযোগ, মাছ-জাল ও তেল লুট

এক মাস না পেরোতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে জেলেদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাছ, জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই জেলে আহত হয়েছেন। ফের এমন ঘটনায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের মালিকানাধীন এফবি শাহআমানত ট্রলারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।

ট্রলারে থাকা জেলেদের অভিযোগ, ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় হামলাকারীরা ট্রলারে থাকা প্রায় ১০০ ট্রে মাছ, মাছ ধরার জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হোসেন ও সেলিম নামের দুই জেলেকে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

1d15e3e0-89fc-4ab9-a0e9-b14f928128d2

আহত হোসেন ও সেলিম দুজনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। পরে তাদের মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ট্রলারের চুকান ভেঙে যাওয়ায় আমরা সমুদ্রে ভাসছিলাম। এ সময় হঠাৎ ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার আমাদের ঘিরে ফেলে। তারা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে। আমরা ট্রলারের কাগজপত্র দেখালেও তারা তা বিশ্বাস করেনি। উল্টো আমাদের মারধর করে এবং নিজেদের ট্রলার দিয়ে আমাদের ট্রলারের চুকান ও বোটের তক্তা ভেঙে দেয়। পরে আমরা হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা চলে যায়। এরপর প্রাণে বেঁচে তীরে ফিরে আসি।’

ট্রলারটির মালিক দেলোয়ার বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর ট্রলারটি বাজার করে মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে পাঠিয়েছি। হঠাৎ সুযোগ নিয়ে এফবি নুসরাত, এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আল্লাহর দানসহ ৪-৫টি ট্রলার আমার ট্রলারে হামলা করে। তারা প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ, ৫ লাখ টাকার জাল ও তেল নিয়ে গেছে। এটা ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

138f2cf5-6b9b-44f0-b80e-dd3d03aa6395

মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা তেমন ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে তাদের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে। এতে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের পাশাপাশি সমুদ্রে নৌ-টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত সমুদ্রে টহল দিয়ে যাচ্ছি। জেলেরা যদি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জলদস্যুদের আটক করা সম্ভব। প্রয়োজনে জেলেরা ৯৯৯-এর সহযোগিতাও নিতে পারেন। সমুদ্র ও জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।’

পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন তারকুন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ ঘটনায় গভীর সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলে ও মৎস্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর