জেলা প্রতিনিধি
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জীবিত মাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে পৈতৃক বসতভিটাসহ জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জুয়ার টাকার জোগান দিতে মাকে মৃত দেখিয়ে ওই জমি বিক্রি করা হয়।
উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার টাকার জোগান দিতে তিনি এভাবে জমি বিক্রি করেন।
সম্প্রতি জমির ক্রেতা মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও বড় পুকুরসহ সবকিছু নিজের দাবি করে দখল নিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পরে ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল উত্তোলন করে। এতে জীবিত রহিমাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রির বিষয়টি দেখতে পায় পরিবারটি।
দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ মোট তিনটি দাগে দুটি দলিলের মাধ্যমে ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।
জমির ক্রেতা পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান। ওই দলিলে সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. হোসেন মিয়া। দলিলটি সম্পাদন করেন ঝন্টু সরকার নামের এক দলিল লেখক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজাবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় বৃদ্ধা রহিমার সঙ্গে। জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি তো মরছি না। তা অইলে কেমনে ছেলে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’
জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম স্বামীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখে যেভাবে মৃত বলে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, তা কোনোভাবেই মানা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলিল জুয়া খেলায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও সে পরিবারের আরও অনেক জমি বিক্রি করে দিয়েছে।’
অভিযুক্ত জলিলের ছোট ভাই অলি মিয়া বলেন, তার বড় ভাই জলিল মূলত একটি জুয়াড়ি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। দিনের পর দিন ধারদেনা করে জুয়া খেলে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হারান। একপর্যায়ে জুয়ার আসরেই জমি বিক্রি করার কথা বলে ওই চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। সেই দেনা শোধ করতেই গোপনে মাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অলি মিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মা যে মারা গেলেন, সেই ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিল? আর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই বা কীভাবে এত বড় জালিয়াতির দলিল রেজিস্ট্রি করল?’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে আব্দুল জলিল ও দলিল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, ‘আমাকে মৃত সনদ ও ওয়ারিশান দেওয়া হয়েছে। তা দেখে দলিল সম্পন্ন করে দিয়েছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হামিদুল মৃত সনদ ও ওয়ারিশান দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখতেছি।’
প্রতিনিধি/এসএস