জেলা প্রতিনিধি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
নেত্রকোনার মদনে ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) ৫ হাজার কেজি সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই হ্যান্ডট্রলিচালককে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে আটক দুজনকে নেত্রকোনা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন— মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামের মাসুম মিয়া (২৮) ও একই গ্রামের আকারুল্লাহ (২৪)।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— ওএমএস ডিলার মদন উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তার সহযোগী কবির তালুকদার ও আব্দুল করিম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর দলীয় পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী একজন ওএমএস ডিলার। তার গোডাউনে থাকা সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশে দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে ফতেপুর বাজার থেকে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদে শুক্রবার সকালে অভিযান চালায় পুলিশ।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা সড়ক থেকে দুটি হ্যান্ডট্রলি আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের ১০০ বস্তায় মোট ৫ হাজার কেজি চাল উদ্ধার করা হয়।
এ সময় খাদ্য অধিদপ্তরের লোগো ও লেখা সম্বলিত ১৩৫টি খালি পাটের বস্তা এবং চাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সবুজ রঙের হ্যান্ডট্রলিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক দুই চালকের কাছে উদ্ধার করা চালের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলেও তারা তা দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাল পরিবহন ও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য দেন।
মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মামলা করা হয়েছে। আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ