Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগের তারে জড়িয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে আবাদি জমিতে অবৈধভাবে দেওয়া জিআই তারের বিদ্যুৎসংযোগে স্পৃষ্ট হয়ে নবিরন নেছা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ টেনে নিয়ে গুমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। 

এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫)-কে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

শুক্রবার গভীর রাতে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতার রফিকুল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার আইনুদ্দিন প্রামানিক পাড়া গ্রামের মৃত জলিল মৃধার ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দঘাট থানার চর দৌলতদিয়া এলাকায় চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা নবিরন নেছা শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কাজ করার জন্য মাঠে যান তিনি। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে পাশের একটি আখক্ষেতের পানিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম তার আখক্ষেতের চারপাশে অবৈধভাবে জিআই তার টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেখেছিলেন। মাঠে কাজ করতে গিয়ে ওই তারের সংস্পর্শে আসতেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নবিরন নেছা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে আসামিরা মরদেহটি পাশের ধানক্ষেত থেকে টেনে আখক্ষেতে নিয়ে যায় এবং গুম করার উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের পাশেই গর্ত খনন করে।

ঘটনার পর নিহত বৃদ্ধার মেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সহায়তার জন্য র‌্যাব-১০, ঢাকা বরাবর একটি  পত্র পাঠান।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বৃদ্ধি করে। পত্র পাওয়ার মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ (ফরিদপুর ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এলএ