জেলা প্রতিনিধি
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মরা মেঘনা নদীর লেক এলাকায় ঘুরতে আসা এক তরুণ-তরুণীকে (পর্যটক) হেনস্তার ঘটনা অভিযুক্ত দুই যুবককে শাস্তিস্বরূপ নদীতে ৫০টি ডুব দেওয়ানো হয়।
স্থানীয় আবির মাহমুদ বাদশা ও রাজুসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার সকালে তাদের এমন শাস্তি দেন।
অভিযুক্তরা হলেন- তৌহিদ (২২) ও নুর আলম (২০)।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মরা মেঘনা নদীর লেকের পাড়ে ঘুরতে আসা এক তরুণ-তরুণীকে কয়েকজন স্থানীয় যুবক উত্ত্যক্ত ও হেনস্তা করছে। তাদের মুখমণ্ডল জোরপূর্বক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভিডিও করে। পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় আবির মাহমুদ বাদশা ও রাজুসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত দুই যুবক তৌহিদ ও নুর আলমকে ধরে ওই লেকের পাড়ে নিয়ে মারধর করেন, কান ধরে উঠবস করান। পরে নদীতে ৫০ ডুব দেওয়ার শাস্তি দেন।
পুরো শাস্তি দেওয়ার ঘটনাটি তারা ধারণ করে ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবির হোসেন ওরফে বাদশা মুঠোফোনে বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর যেভাবে দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছিল- তাতে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। যার কারণে আজ বখাটেদের দুজনকে ধরে তারা শাস্তি দিয়েছেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, যেহেতু এটি একটি ইভটিজিং বা হেনস্তার ঘটনা, সেহেতু পুলিশ সরাসরি মামলা নিতে পারছে না। তাই আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার জন্য ইউএনও সাহেবের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসনের (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ঘুরতে যাওয়া তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ভিডিও তিনি দেখেছেন। ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের। পুলিশ তাদের আটক করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ঘটনা পুরনো হওয়ায় আটক বখাটেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশ অভিযুক্তদের আদালতে পাঠিয়ে দেবে।
প্রতিনিধি/এলএ