০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেতু দুটি চালু হওয়ায় এই পথে চলাচলকারী যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ধউর মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ভিস সেতু দুটি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ খুলে দেওয়া হলো। মূল উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও জনগণ যাতে ধাপে ধাপে প্রকল্পের সুফল পান, সেই লক্ষ্যে সার্ভিস সেতু দুটি চালু করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, বাইপাইল ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। পণ্য পরিবহন, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
এসময় প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, তুরাগ নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। সার্ভিস লেন দিয়ে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা বলছেন, এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও চলাচলে ভোগান্তি ছিল। সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছেন, প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ হলে ঢাকা-আশুলিয়া পথে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা, পরামর্শক, ঠিকাদার ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছিল। তবে সম্প্রতি কাজের গতি বেড়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশ।
প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ এবং বাইপাইলে তৃতীয় তলা ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তুরাগ নদের পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রকল্পের ধউর-আশুলিয়া অংশে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার অংশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্প চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া, সাভার ও দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিনিধি/এএম