জেলা প্রতিনিধি
২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ফেনীজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন জ্বর ও নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন শত শত মানুষ, যাদের বড় অংশেরই ডেঙ্গু পজিটিভ আসছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জুলাই মাসের তুলনায় চলতি আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এদিকে মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ আগস্টের ২৭ তারিখের মধ্যেই সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা। একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, জনবল সংকটে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভায় থেকেও আমরা কোনো ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কম পাচ্ছি। ডেঙ্গুর প্রকোপ এত বাড়লেও ওষুধ ছিটানো বা সচেতনতামূলক কাজ চোখে পড়ছে কম।
তিন স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসা আব্দুল আহাদ জানান, ৫ দিন ধরে তারা একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আরও পড়ুন
পৌরবাসীদের অভিযোগ, শহরের সিংহভাগ এলাকার নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। বছরজুড়ে জমে থাকা পচা ময়লা পানি এবং নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার না করায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও শহিদুল ইসলাম জানান, ড্রেন পরিষ্কার না করায় ঘরের ভেতরও মশার কামড়ে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস-১ সহ প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।
অন্যদিকে মশা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম বলেন, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ দিন করে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই, সে লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিংও করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এলএ