Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ময়মনসিংহে ইউএনওর বিরুদ্ধে কাজ ছাড়াই ৬০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৬০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি অনুমোদন নিয়ে অর্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর, গাজিরভিটা, স্বদেশী ও জুগলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের অনুকূলে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থবছরের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক ইউনিয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর ও গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী এবং পানির সংযোগও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ এলেও কোনো সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন হয়নি।

ধারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভবনটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। বরাদ্দের কথা শুনলেও অর্থবছর শেষ হওয়ার পরও কোনো কাজ হয়নি।

আরেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংস্কারের জন্য বরাদ্দের বিষয়ে জানলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি। ভবনের বিভিন্ন অংশে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।

ধুরাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, তিনি কোনো সংস্কারকাজ হতে দেখেননি। অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কৈচাপুর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান এবং গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথও জানান, গত অর্থবছরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, স্বদেশী ও জুগলী ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থাও একই।

এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, গত ৩০ মে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে রঙ ও অন্যান্য কাজ করলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কাজ শুরু করা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বরাদ্দের অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

হালুয়াঘাটের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ছয়টি ভবন সংস্কারের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ করা আছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হলেও ওই অর্থবছরের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ১ শতাংশ তহবিলের অর্থ বণ্টনে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তখনও তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারা সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/টিবি