জেলা প্রতিনিধি
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ এএম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সেখানে নির্মিত স্থাপনার সংখ্যা, নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং স্থাপনা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মতলব উত্তর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘মেঘনার তীর দখল করে দুই হোটেল, অনুমতি ছাড়াই চলছে জলবিলাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনার তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল নির্মাণ করে পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরেকটি হোটেল নির্মাণাধীন থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু
প্রকাশিত সংবাদটি আদালতের নজরে আসার পর তা পর্যালোচনা করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সংবাদে উল্লিখিত তথ্য পর্যালোচনা ও সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আদালত মনে করেছেন, এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দণ্ডবিধির ৪৩১ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে বিষয়টি স্বপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্তে মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে কারা জড়িত, সেখানে মোট কতটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও নথিও তদন্তের আওতায় রাখতে বলা হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। ষাটনল লঞ্চঘাট ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের নিয়মিত সমাগম হয়। ওয়াটার বাস চলাচলের কারণে এলাকাটির গুরুত্বও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
আদালতের তদন্তের নির্দেশের পর স্থানীয়দের আশা, সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এমআই