জেলা প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাবার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রেখে কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই দুই ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মাকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন নুরজাহান বেগম। পরে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নুরজাহান বেগমের স্বামী আব্দুল খালেক মানের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। স্বজনেরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বাবার কবরের জায়গা নিয়ে দুই ছেলে মাহাবুর রহমান ও আসাবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের স্বজনেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এর মধ্যেই দুই ছেলের বিরুদ্ধে নুরজাহান বেগমকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই তিনি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পরে তিনি মেয়ে নাছিমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামে মেয়ের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়েজামাই নজরুল ইসলাম।
নুরজাহান বেগমের অভিযোগ, ছেলেরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না। এমনকি খাবারও দিচ্ছেন না। স্বামীকে হারানোর পর এমন পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এদিকে নুরজাহানের অভিযোগসংবলিত ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলেও বাবা-মায়ের মরদেহ এবং বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
আসাবুর রহমানের ছেলে আল আমিন বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য আমার বাবা বাইরে আছেন। বড় চাচা মামলা করেছেন শুনে বাড়িতে আসেননি।’ তবে তাঁর দাদি নুরজাহান বেগম বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সন্যাসগাছা ওয়ার্ডের সদস্য পংকজ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, সন্যাসগাছার ঘটনায় ওই নারীকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে নুরজাহান বেগম অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মাহাবুর রহমান থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
স্বামীর মরদেহ দাফনের জায়গা নিয়ে ছেলেদের সংঘর্ষ, এরপর স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই বৃদ্ধা মায়ের ভিটেছাড়া হওয়ার অভিযোগ—ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ বয়সে সন্তানের কাছেই যদি একজন মায়ের আশ্রয় না মেলে, তবে তার নিরাপদ ঠিকানা কোথায়?
প্রতিনিধি/এসএস