যশোরের কেশবপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই দুই ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ভাই ও তাদের দুই স্ত্রীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত চারজনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ন্যাসগাছা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী খালেক মান সোমবার ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি তার দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও আসাবুল (৪৫)-এর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। বড় ছেলে মাহবুবুরকে চুকনগর-গৌরীঘোনা সড়কের পাশে ১৮ শতক এবং ছোট ছেলে আসাবুলকে গ্রামের বাড়িসহ ১৫ শতক জমি দেওয়া হয়েছিল।
ছোট ভাই আসাবুলের অভিযোগ, বড় ভাই বাবাকে ভুল বুঝিয়ে সড়কের পাশের তুলনামূলক বেশি দামি জমি লিখে নিয়েছেন এবং তাকে কম মূল্যের জমি দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মাহবুবুরের বাড়িতে খালেক মান মারা যাওয়ার পর তাকে কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। আসাবুল তার বাবাকে পুরোনো বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা বললে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি বেধে যায়। আসাবুলের দাবি, বড় ভাই মাহবুবুর ও তার ছেলেরা তাকে এবং তার স্ত্রী হালিমাকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন, এতে তার মাথায় আঘাত লাগে।
আরও পড়ুন: ডিএনএ টেস্টে মিলল সত্যতা, নবজাতকের বাবা মাদরাসা শিক্ষক
অন্যদিকে, বড় ভাই মাহবুবুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পৈতৃক বাড়ির কবরস্থানে বাবাকে দাফন করতে তারা কোনো বাধা দেননি। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ছোট ভাই আসাবুল ও তার লোকজন উল্টো তাদের ওপর হামলা চালান। পরবর্তীতে বাবার দাফন সম্পন্ন করে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন এবং এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারামারির ঘটনায় আসাবুল ও তার স্ত্রী হালিমা বেলা পৌনে দুইটার দিকে এবং এর কিছু সময় পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাহবুবুর ও তার স্ত্রী মমতাজ কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এর আগে বেলা দেড়টার দিকে মারা যাওয়া খালেক মানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেকসোনা খাতুন জানান, মারামারির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি




