Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সি-ট্রাক ও ট্রলার চললেও বন্ধ ফেরি, যাত্রীদের ক্ষোভ

উপজেলা প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে ফেরি ‘মহানন্দা’ চলাচল বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে একই সময়ে সি-ট্রাক, স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারসহ অন্যান্য ছোট নৌযান চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সকালে নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত চলমান ছিল। ওই সময় নদীর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকায় সি-ট্রাক, স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলার চলাচল করলেও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফেরির দায়িত্বে থাকা মাস্টার ও মেরিন কর্মকর্তা ফেরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী যাত্রী, মালামাল ও যানবাহন ফেরিতে ওঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং ১৪৫টি যাত্রীর টিকিট বিক্রি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ নৌ সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম মোবাইল ফোনে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে যাত্রী ও যানবাহন ওঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে ঘাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

ভুক্তভোগী যাত্রী আবদুল আহাদ বলেন, “একই নদীতে একই ঘাটে দুই ধরনের নিয়ম কেন হবে? দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যদি নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে একই সময়ে ছোট ট্রলার, স্পিডবোট ও সি-ট্রাক কীভাবে চলাচল করছে?”

ভুক্তভোগী গাড়িচালক মাইদুল জানান, রাতে হাতিয়া যাওয়ার জন্য গ্যাস বোঝাই গাড়ি নিয়ে চেয়ারম্যানঘাটে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ফেরিতে ওঠার জন্য টিকিট কেটে গাড়ি নিয়ে পন্টুনে ওঠার পর জানতে পারেন ফেরি যাবে না। পানি বেড়ে যাওয়ায় গাড়িটি আর নামাতেও পারেননি, যা তাদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়েছে।

IMG_20260812_174813

ফেরির ইজারা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম তুরাগ অভিযোগ করেন, তিন নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও নদীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলছিল এবং ফেরির মাস্টার ও মেরিন অফিসারও ফেরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বসে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম অন্যান্য নৌযান থেকে সুবিধা নিয়ে শুধু ফেরিটি বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে ফেরির দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মো. ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পচা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম বলেন, “ফেরি চলাচল বা বন্ধ রাখার দায়িত্ব আমার নয়, এটি বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা দেখে থাকেন। তবে যাত্রীরা আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর আমি মেরিন অফিসারকে বলেছি, যদি ফেরি বন্ধ থাকে তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য নৌযান চলাচলও যেন বন্ধ রাখা হয়। অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।”

স্থানীয় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, আবহাওয়ার সতর্কতায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জরুরি হলেও একই নৌরুটে অন্যান্য নৌযান সচল রেখে শুধু ফেরি বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি ও বিভ্রান্তি কমে।

প্রতিনিধি