জেলা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রুপভিত্তিক শক্তি প্রদর্শনের জেরে খুলনার লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৬।
১৯ আগস্ট সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত সাইফি ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে র্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গোপালগঞ্জ সদর থানার মাজিগাতী বাজার এলাকা থেকে শুক্রবার সাইফি (২১) ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম রাকিবকে (১৭) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যে একটি শর্টগান, একটি অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব জোড়া হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
সাইফির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত নাজমুল ছিল সাইফি গ্রুপের সদস্য। গ্রুপটি ‘বি কোম্পানি’র মতাদর্শী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম ছিল রফিক গ্রুপের সদস্য।
জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি জানিয়েছে, দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে সাইফি গ্রুপের সদস্য নাজমুলকে আটক করে রফিক। পরে সাইফিকে ভিডিও কল দিয়ে নাজমুলকে আটকে রাখার দৃশ্য দেখানো হয়। ওই ভিডিও কলের মধ্যেই নাজমুলকে কোপানো এবং মাথায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য সাইফিকে দেখানো হয়। এ দৃশ্য দেখার পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সাইফি। পরে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ বের হয়।
র্যাবের ভাষ্য, প্রতিশোধ নিতে বের হওয়ার পর সাইফি ও তার দল মঞ্জুরুল ইসলামকে সামনে পায়। সন্ধ্যার আগেই তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মঞ্জুরুলের বাবা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন বলেও জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নাজমুলের আগে মঞ্জুরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলের গুলিবিদ্ধ ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাজমুলকে আটকে রাখার পর অন্যত্র নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল, নাকি যে এলাকায় মরদেহ পাওয়া যায় সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়— তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতাও জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সাইফির নেতৃত্বাধীন দলের ১৫ থেকে ১৬ জন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নাজমুলকে আটকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় রফিক গ্রুপের অন্তত ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার সাইফির বয়স মাত্র ২১ বছর। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ অন্তত চারটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেফতার রাকিবের বয়স আনুমানিক ১৭ বছর।
র্যাব-৬ জানিয়েছে, জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশ, কেএমপি, ডিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলবে।
গত ১৯ আগস্ট খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা কালভার্ট এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন- মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) ও নাজমুল (১৮)। জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিনিধি/এলএ