Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

জয়পুরহাট সীমান্তে বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

জেলা প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিনেও পাকা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে পুশইন, উত্তেজনা বা কোনো অঘটন ঘটলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার কদমতলী মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর ও কল্যাণপুর হয়ে পাঁচবিবি উপজেলার লকমা জমিদারবাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি পুরোপুরি সীমান্তঘেঁষা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মুমূর্ষু ও প্রসূতি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় কাদা-পানিতে ভিজে ও ময়লা হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

34b183e4-69d7-4454-8368-2b7da14095cd

স্থানীয় শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন বলেন, ‘বর্ষার সময় স্কুলে যাওয়ার পথে কাদা-পানির কারণে স্কুলে পৌঁছানোর আগেই পোশাক কাদায় মেখে যায়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যানকে ভোট দিই। কিন্তু তারা আমাদের রাস্তাগুলো ঠিক করেন না। বর্ষার সময় রাস্তার কারণে চলাফেরায় অনেক কষ্ট হয়।’

শিউলি আক্তার বলেন, ‘রাস্তার সমস্যার কারণে প্রসূতি বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন

প্রতিবন্ধী দুই ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ

আরেক বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, ‘রাস্তার এমন অবস্থা যে ইজিবাইক বা মোটরসাইকেলও চলতে পারে না। বাধ্য হয়ে ঘাড়ে-পিঠে বোঝা নিয়ে কোনোরকমে ওপারে গিয়ে বাজার করতে হয়।’

রামকৃষ্ণপুর কদমতলী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

2742c302-30f1-4ea6-ac1e-df499f2d356a

ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, ‘কল্যাণপুর ও রামকৃষ্ণপুর মিলে একটি ওয়ার্ড। এখানে প্রায় ১৬-১৭শ ভোটার বসবাস করেন। তাদের সুবিধার জন্য যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি টেন্ডারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘এটি সীমান্তবর্তী এবং বিজিবির যাতায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাস্তা। আগামীতে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা চাওয়া হলে রাস্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

প্রতিনিধি/এসএস