প্রতিবন্ধী দুই সন্তান রফিক মিয়া (১৮) ও রোকন মিয়াকে (১৭) নিয়ে প্রতিদিনের জীবন কাটছে আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেন তারা। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই ছেলের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই প্রশ্নই এখন তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী দুই ছেলের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। তাদের বাবা আমিনুর রহমান দিনমজুর। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। একদিকে সন্তানদের চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ, অন্যদিকে খাবারসহ পরিবারের অন্যান্য ব্যয়—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই সংকটে পড়তে হয় পরিবারটিকে। অনেক সময় প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে সন্তানদের চিকিৎসা করাতে পারেন না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আমিনুর ও রনজিদা। তাদের গোসল করানো, খাওয়ানো ও পোশাক পরানোসহ সব কাজই বাবা-মাকে করতে হয়। দুই ছেলেকে এক মুহূর্তের জন্যও একা রাখা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের স্বাভাবিক কাজকর্মের পাশাপাশি আমিনুরের উপার্জনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

রনজিদা বেগম ও আমিনুর রহমান বলেন, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে দুই সন্তান ভবিষ্যতে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে তারা আশা করেন।
ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে ব্যক্তিগত ও পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদ বলেন, প্রতিবন্ধী রফিক ও রোকনকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের জন্য অন্য কোনো সরকারি সুবিধার সুযোগ এলে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারটির পাশে সমাজের মানুষ দাঁড়ালে এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দুই সন্তানের জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্বস্তি ফিরতে পারে অসহায় বাবা-মায়ের জীবনেও।
প্রতিনিধি/এসএস




