Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে যুবদল নেতা সুজন হত্যার রায়ে পরিবারের ক্ষোভ, কাঁদলেন মা

জেলা প্রতিনিধি

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও মনিরুল ফকিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। একই মামলায় মো. পিয়াস হোসেন ও রাশিদুল ইসলাম রাশেদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তাদেরও বিচার দাবি করেছেন তারা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানান সুজনের পরিবারের সদস্যরা। এসময় সুজনের মাতা মাজেদা বেগম, তার ভাই আরিফ হোসেন, মো. হিমেল ও মো. রোকন এবং চাচাতো ভাই ওয়ালিদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে সুজনের মা মাজেদা বেগম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে আমরা গতকাল আদালতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। আমি ন্যায্য বিচার চাই, ১০ বছর ধরে আমি লড়ে গেছি। আমি ভালো বিচার চাই।’

সুজনের ভাই আরিফ হোসেন বলেন, ‘মূল আসামি বাদ দেওয়া হয়েছে। রাশেদের সঙ্গে তিথির বিয়ে হয় হত্যার ২ বছর পরেই, আবার বাচ্চাও আছে। সে কীভাবে খালাস পেলো। ওর পরিকল্পনাই এটা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায় বিচার চাই। যাবজ্জীবন হয়েছে- আমরা ফাঁসি চাই। যাদের খালাস হয়েছে, তাদেরও বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিথির বাসার সামনে কথা বলছে, পরিকল্পনা করছে। আমরা উচ্চ আদালতে যেতে চাই।’

আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘মনিরুল ও রাশেদ একসঙ্গে দোকান থেকে সেই অস্ত্র কিনেছে। এটা মনিরুল স্বীকার করেছে। মনিরুল রাশেদের কর্মচারী- মনিরুল বলেছে, যা বলার রাশেদ বলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জবাই করার পরে সেই অস্ত্র ঘরের দরজার সামনে পাওয়া গেছে। মূল আসামিকে বাঁচাতে এই রায় দিয়েছে। যে এটার পরিকল্পনা করেছে ও ঘটিয়েছে, সেই রাশেদকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

নিহতের চাচাতো ভাই ওয়ালিদ সেখ বলেন, ‘রাশেদ বাহিরের লোক না, সুজনের ছোট বোনের জামাই। সুজন তার বউয়ের সঙ্গে রাশেদের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েছিল, আমাদের বোন ছিল তাই প্রতিবাদ করেনি। এরপরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।’

এরআগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় তার স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও মনিরুল ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত থাকলেও উম্মে জামিলা তিথি পলাতক ছিলেন। একই মামলায় মো. পিয়াস হোসেন ও রাশিদুল ইসলাম রাশেদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রায়ের পর আদালত চত্বরে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বন্ধুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ করেন। তারা রায়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২ জুন পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সেলিম রেজা সুজনকে নিজ ঘরে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের মা মাজেদা বেগম সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তোষ নয়, তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

প্রতিনিধি/এএম