Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি প্রতিবেশী রবিউল শিকদার রবিকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তারিকুজ্জামান লিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল ইসলাম ওরফে রবি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে জান্নাতুল মাওয়াকে একা পেয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন রবিউল। পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রবিউলকে একমাত্র আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিন সকাল নয়টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন রবিউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় শিশুর ঘুষিতে আরেক শিশুর মৃত্যু

ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২২ জুলাই সকালে রবিউলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই রবিউল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ আগস্ট নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু রবিউলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় রবিউলকে আদালতে আনা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিহত শিশুটির স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা জড়ো হন।

আলোচিত এ শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়। মামলায় রাষ্ট্র কর্তৃক আসামি রবিউলের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী কাজী আবুল কালাম বলেন, আসামির জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট-সবই তার বিপক্ষে। রাষ্ট্র আমাকে নিয়োগ করেছিল, যতটুকু করার করেছি। আর মামলায় রায় যা হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

শিশুটির স্বজন ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকেরা রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এসএস